সর্বশেষ

বিপিএম পেলেন নোয়াখালীর এসপি মোঃ ইলিয়াছ শরীফ

আবু নাছের মঞ্জু:
বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) পেলেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ ইলিয়াছ শরীফ। জঙ্গি, সন্ত্রাস, নাশকতা প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকার পাশাপাশি জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমের জন্যে তাঁকে এই পদক প্রদান করা হয়।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ এই পদক পরিয়ে দেন।

বিপিএম অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সুপার মোঃ ইলিয়াছ শরীফ বলেন, ‘সব সময়ই নিজের সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও সততার সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছি। বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ এই পদক আমাকে জনসেবামূলক কাজে আরো উৎসাহ ও প্রেরণা যোগাবে।’

মোঃ ইলিয়াছ শরীফ ২০০১ সালের ৩১ মে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ নোয়াখালীতে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) অর্জন করেন। এছাড়াও ২০০৭ ও ২০১২ সালে জাতিসংঘ শান্তিপদক লাভ করেন, ২০১১ ও ২০১৪ সালে আইজি ব্যাজ লাভ করেন।

নোয়াখালী জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সোনাইমুড়ী উপজেলার পোরকরা গ্রামে হেযবুত তাওহীদের অনুসারীদের একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে একটি চক্র গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা। ঘটনার দিন স্থানীয় ও বহিরাগত একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হেযবুত তাওহীদের অনুসারীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা হেযবুত তাওহীদের দুই কর্মীকে পুড়িয়ে ও জবাই করে হত্যা করে এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে পুরো এলাকায় ভয়াবহ তান্ডব সৃষ্টি করে।

খবর পেয়ে এসপি মোঃ ইলিয়াছ শরীফ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে সাহসিকতা ও বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দেন। এ সময় তিনি সহ আরো ৮/১০ জন পুলিশ সদস্য জখমপ্রাপ্ত হন। এক পর্যায়ে ফেনী, লক্ষীপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। যুক্ত হয় কয়েক প্লাটুন র‌্যাব ও বিজিবি সদস্য। এসপি ইলিয়াছ শরীফের নেতৃত্বে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সেদিন মধ্যরাত পর্যন্ত প্রায় ১৩ ঘন্টাব্যাপী শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তীব্র আক্রমণের মুখে আটকা পড়া ১১৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদে জেলা সদরে পুলিশ হেফাজতে নিতে সক্ষম হন। পথে বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ও বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে-আগুন জ্বালিয়ে সড়কে অবরোধ সৃষ্টি এবং সোনাইমুড়ি থানা আক্রমণের চেষ্টা হলেও দক্ষতা ও সাহসিকতার সাথে সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে পুলিশ।

১১৪ জন মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষায় এসপি ইলিয়াছ শরীফের নেতৃত্বে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাহসী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ পুলিশ ও সরকারের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া জেলা পুলিশ পরিচালিত ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদেরকে নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী ঈদ উৎসব, হতদরিদ্র নারী ও শিশুদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে পুলিশ সুপারের অংশগ্রহণ ও প্রনোদনা প্রদান পুলিশ সম্পর্কে মানুষের  ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করে।

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.