সর্বশেষ

নোয়াখালীতে বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের জন্মশত বার্ষিকী পালন

লোকসংবাদ প্রতিনিধি:
নোয়াখালীতে গান্ধি আশ্রম ট্রাস্টের উদ্যোগে বিশিষ্ট আইনজ্ঞ, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের জন্মশত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে জেলা শহরের বিআরডিবি মিলনায়তনে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

ভারতের পদ্মশ্রী ও একুশে পদকে ভূষিত গান্ধি আশ্রম ট্রাস্টের সচিব ঝর্ণাধারা চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি বিমলেন্দু মজুমদার, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মোল্লা হাবিবুর রাসুল মামুন, উন্নয়ন সংগঠক আবদুল আউয়াল। এ সময় সভা পরিচালনা করেন গান্ধি আশ্রম ট্রাস্টের ট্রাস্টী ও জেলা জজ আদালতের জিপি কাজী মানছুরুল হক খসরু। সভার শুরুতে দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের সংক্ষিপ্ত জীবনী উপস্থাপন করেন গান্ধি আশ্রম ট্রাস্টের পরিচালক রাহা নব কুমার।

বক্তারা বলেন, দেবেশ চন্দ্র ছাত্র জীবন তথা ব্রিটিশ সময় থেকে প্রগতিশীল আন্দোলনের একজন সক্রীয় সংগঠক ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধেরও একজন সংগঠক। তিনি ৬ষ্ঠ থেকে টানা কৃতিত্বের সাথে অর্থশাস্ত্রে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি আইনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রিও অর্জন করেন। দীর্ঘজীবনে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলার নবগণিত তৎকালীন ঢাকা হাইকোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ব্রিটিশ সময় থেকে বামপন্থী আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বহুবার কারাবাস করেছেন। তাঁর কাব্যগ্রন্থসহ একাধিক প্রবন্ধ সংকলণ রয়েছেন। তিনি বর্তমান ড. আলীম আল-রাজী ‘ল’ কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন পরবর্তীতে ওই কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের সভাপতি, নোয়াখালী গান্ধী আশ্রমের সভাপতি এবং চট্টগ্রামের প্রবর্তক সংঘের সভাপতিও ছিলেন। প্রতিষ্ঠা করেন এলেঙ্গাতে ‘বাণী মন্দির’ নামের পাঠাগার, আশির দশকে মহিলা সমবায় কেন্দ্র, দাতব্য চিকিৎসালয় এবং শিশুদের জন্য দুগ্ধ বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন করেন তিনি। নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন মায়ের নামে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ শত্রু সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

প্রসঙ্গত: বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ১৯১৪ সালের ৩ নভেম্বর টাঙ্গাইল জেলার এলেঙ্গার ঐতিহ্যবাহী জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৩১ সালে সরকারি বৃত্তিসহ ম্যাট্রিক, ১৯৩৩ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে আইএসসি, ১৯৩৫ সালে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৩৮ সালে কলকাতার ইউনিভার্সিটি ‘ল’ কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে আইনে স্নাতক ডিগ্রি ও ১৯৪০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০০৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ৮৯ বছর বয়সে ঢাকার শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
#

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.