সর্বশেষ

৪৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ/ শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক নিজ জেলা নোয়াখালীতে উপেক্ষিত

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক
আবু নাছের মঞ্জু
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি)। সার্জেন্ট জহুরুল হক ছিলেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় ১৯৬৯ সালের এইদিনে পাকিস্থানী সামরিক জান্তা কারা অভ্যন্তরে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সার্জেন্ট জহুরুল হকের আত্মদানের পথ ধরে ৬৯ এর গণ-আন্দোলন পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয়।
নোয়াখালী জেলা সদরের সোনাপুরে ১৯৩৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হকের জন্ম। নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। ১৯৬৫ সালে যোগ দেন বিমানবাহিনীতে। সেনানিবাসে পথশিশুদের ওপর পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় সামরিক জান্তার বিরাগভাজন হন জহুরুল হক। এক পর্যায়ে  ১৯৬৭ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি। কারাবন্দী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ওই মামলার প্রধান আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে রাজস্বাক্ষী হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয় । ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কারা অভ্যন্তরে গুলি করে হত্যা করা হয় সার্জেন্ট জহুরুল হককে।

সার্জেন্ট জহুরের আত্মদানের পথ ধরে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু জাতির এই বীর সন্তানের নিজ জেলায় তাঁর নামে কোন কিছুই করা হয়নি। সোনাপুরে নোয়াখালী জেলা পরিষদ কলোনিতে সংস্কারের অভাবে সার্জেন্ট জহুরের পৈত্রিক বাড়িটির এখন জীর্ণদশা। বাড়ির পাহারাদার মো. হানিফ জানান, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জেলা পরিষদ বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন এলাকাবাসী প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠে। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বাড়িটি শেষ রক্ষা পায়। মো. হানিফ(৬০) বলেন, ‘এক সময় বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান, মেজর জলিল, আ.স.ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, আবদুল কুদ্দুস মাখন, নূরে আলম জিকু সহ অসংখ্য জাতীয় নেতার যাতায়াত ছিল এই বাড়িতে। সার্জেন জহুরের আরেক ভাই প্রয়াত এ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুল হক এবং জহুরের চাচা প্রয়াত জাসদ নেতা কাজী মাহফুজুল হক ওপফে মাদু চাচার স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়িতে ৫২র ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ অভ্যুঙ্খান, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ সহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের জাতীয় নেতাদের আগমন ঘটতো। কিন্তু ঐতিহাসিক এ বাড়িটিকে ঘিরে কিছুই করা হয়নি। উল্টো উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হয়েছে বার বার।

সার্জেন্ট জহুরুল হকের প্রতিবেশী আবুল হাশেম (৭০) জানান, ছোটবেলা থেকে  প্রচ- সাহসী ও প্রতিবাদী চরিত্রের ছিলেন বলে লোকজন তাঁকে মার্শাল নামে ডাকতেন। অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনি বলে সার্জেন্ট জহুরকে জীবন দিতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে তাঁর এই বীরত্ব গাঁথা জানে না নতুন প্রম্মে অনেকেই। সরকার যায় সরকার আসে কিন্তু সার্জেন্ট জহুরের স্মৃতি রক্ষায় কোন সরকারই এগিয়ে আসেনি।

সার্জেন্ট জহুরুল হকের চাচাতো বোন ফাতেমা হক বলেন, আমার ভাইকে দিয়ে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে স্বাক্ষ আদায় করতে চেয়েছিল। তিনি তা করেনি বলেই ওরা তাকে হত্যা করে। কিন্তু তাঁর স্মৃতি রক্ষায় এ জেলায় কিছুই করা হলো না।

শহীদ জহুর ওদুদ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মো. শাহজাহান, গত কয়েক বছর আগে জেলা শহরে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের স্মৃতি রক্ষায় একটি ভাষ্কর্য করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ লক্ষ্যে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটিও করা হয়েছিল। কিন্তু কাজটি আর করা হয়ে উঠেনি। শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিধ্যালয়ের নামকরণ ও শহরের তার ভাষ্কর্য় স্থাপনের দাবি জানান তিনি।


  • আবু নাছের মঞ্জু

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.