সর্বশেষ

নোয়াখালীতে হিন্দুদের বাড়িঘর-মন্দিরে ভংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আটক ১৫

বিচারের দাবিতে কর্ম-বিরতি, দোকানপাঠ বন্ধ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জে হিন্দুদের বাড়িঘর-মন্দিরে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় র‌্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার বিকালে রাজগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। এনিয়ে ওই ঘটনায় মোট ২৮ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হলো।

গত বৃহস্পতিবার জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পরপরই জামায়াত-শিবির কর্মীদের সাথে যোগ দিয়ে একদল সুযোগ সন্ধানী হিন্দুদের ওপর এই হামলা চালায়। বর্বোরোচিত এই হামলার প্রতিবাদে রাজগঞ্জ বাজারে হিন্দুদের সকল ব্যববা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো এবং ক্ষতিগ্রস্থ মন্দিরগুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকানপাট বন্ধ থাকবে বলে জানায় ক্ষতিগ্রস্তরা।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ এবং আগুনে সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে ১৬০ বান ঢেউটিন এবং নগদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে রাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে ঢেউটিন ও নগদ টাকা তুলে দেন বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার নুরুল হক। এসময় জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি বিনয় কিশোর রায়, বেগমগঞ্জ উপজেলা পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ব্রজেন্দ্র মজুমদার হারু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইমদাদুল হক, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম ও রাজগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হারুন উপস্থিত ছিলেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার নুরুল হক জানান, প্রাথমিক ভাবে ১৬০ বান ঢেউটিন এবং নগদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা ক্ষতিগ্রস্থ ৬৭টি পরিবার, ৬টি মন্দির এবং ৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িগুলো পরিদর্শন করে ৩৮ পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার নগদ সহায়তা দেন এবং পর্যায়ক্রমে আরো সহায়তার আশ্বাস দেন।
বেগমগঞ্জ থেকে গত সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিনহাজ আহমেদ জাবেদের পক্ষ থেকে চাউল, ডাল, তেল, আলু, চিড়া, মুরি, লবন, চিনিসহ ৫০ কেজি করে ৪০ পরিবারের মাঝে খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বিশিস্ট শিল্পপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ টি এম এনায়েত উল্যার পক্ষ থেকে ৫৫ পরিবারের মাঝে ঘর উঠানো এবং আনুষাঙ্গিক ব্যয় মেটাতে নগদ টাকা প্রদান করা হয়।

এছাড়া পূঁজা উদযাপন পরিষদ, বাসদ, গণতান্ত্রিক পার্টি ও ছাত্রকেন্দ্রের প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু বাড়িগুলো পরিদর্শন করে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এডভোকেট শ্যামল কান্দি দে, শুক্লা সাহা, নির্মল মজুমদার, মানিক লাল দাস ও আবু নাছের সবুজ।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আহসানুল ইসলাম জানান, মন্দির ও বাড়িঘরে লুটতরাজ ও আগুন দেওয়ার ৭১জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো দেড় থেকে দুই হাজার লোককে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে ঘটনার পরপরই।

পুলিশ সুপার (এসপি) মাহবুব রশিদ জানান, সোমবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত চিরুনী অভিযান চালিয়ে রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ১৫ জনকে আটকা করা হয়েছে। এসময় র‌্যাব-১১ও অভিযানে অংশ নেন। এনিয়ে গত তিনদিনে সর্বমোট ২৮জনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই বাছাই করে নিরপরাধ কেউ থাকলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
#

  • আবু নাছের মঞ্জু

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.