সর্বশেষ

নোবিপ্রবিতে অমর একুশে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ভাষা শহীদদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানানোর মধ্য দিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যাপন করা হয়েছে অমর একুশে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার। দিবসের প্রথম প্রহরে বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো: আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জনাব মো: মারুফ উল আলম সহ বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন (অর্ধনমিত) ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭.৫৫টায় প্রশাসনিক ভবনে ডীন মহোদয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন (অর্ধনমিত) ও রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো: মমিনুল হক কালো পতাকা উত্তোলন করেন। পতাকা উত্তোলনের পর অনুষ্ঠিত হয় প্রভাতফেরি; এতে নগ্ন পায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন; সকলের মুখে মুখে উচ্চারিত হয় শ্বাশত সুর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র“য়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি?’ প্রভাতফেরি শেষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন যথাক্রমে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি, জাতীয় দিবস উদ্যাপন কমিটি, কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ, ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের প্রভোস্ট, হযরত বিবি খাদিজা হলের প্রভোস্ট, কর্মচারীবৃন্দ সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শহীদ মিনার। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল থেকেই কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

সকাল সাড়ে ৯টায় শহীদ মিনারের পাদদেশে অনুষ্ঠিত হয় মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো: আবুল হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো: মমিনুল হক, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জনাব মো: মারুফ উল আলম উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রক্টর ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ড. মো: জাহাঙ্গীর সরকার। সভা সঞ্চালনা করেন জাতীয় দিবস উদ্যাপন কমিটির সদস্য জনাব মো: আনিসুজ্জামান। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় দিবস উদ্যাপন কমিটির সদস্য ও নোবিপ্রবি অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব সাখাওয়াত হোসেন। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ ছাড়াও সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মেহেদী হাসান নিশান ও হিমাদ্রি শেখর দত্ত। কর্মচারীদের পক্ষ থেকে গিয়াস উদ্দিন সোহাগ ও নোমান ফারুক। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জনাব মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন, জনাব আবদুল্লাহ-আল ফারুক এবং জনাব মো: সফিকুল ইসলাম। শিক্ষকবৃন্দের পক্ষ থেকে জনাব রেজাউল করিম ও জনাব রবিউল হাসান রনি।

বক্তাগণ ১৯৪৭ সালের পর থেকে দেশকে ভালোবেসে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করে গেছেন তাঁদের প্রত্যেককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, একুশ আমাদের চেতনা, একুশ আমাদের অহংকার এবং একুশ আমাদের প্রেরণা। তাঁদের মতে, শুধু বক্তৃতা বিবৃতির মাধ্যমে বললে হবে না; একুশের চেতনাকে বুকে লালন করতে হবে এবং হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তাঁরা বলেন, ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের। তৎকালীন পূর্ব বাংলাকে ভৌগলিক সীমারেখা, কৃষ্টি ও কালচারের পার্থক্য থাকাসত্ত্বেও শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানীরা পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের প্রতি বিরুপ মনোভাব পোষণ করতে থাকে। সংখ্যাগরিষ্ট হলেও ক্রমেই বঞ্চনার শিকার হতে থাকে বাঙালি। সম্পদ ও অধিকার কেড়ে নিয়েও তারা ক্ষান্ত হয়নি, আক্রমন শুরু করে বাঙালীর মুখের ভাষার উপর। তারা উর্দুকে জাতীয় ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলো, ফলশ্র“তিতে রুখে দাঁড়ায় পূর্ব বাংলার জনগন। পূর্ব বাংলার মুক্তিকামী জনগণ ধর্মরাষ্ট্র পাকিস্তানের মোহ ত্যাগ করে ১৯৪৮ সালে শুরু করে বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলন যা ১৯৫২ সালে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। এ আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ এর শিক্ষার্থীবৃন্দ সহ সারা পূর্ববাংলায় ছড়িয়ে পড়ে; সরকারের ভিত কেঁপে উঠে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই স্লোগানে মুখরিত ছিলো বায়ান্নর আন্দোলনে গতিপথ। ১৪৪ ধারা ভেঙে রফিক, শফিক, বরকত, সালাম, জব্বারের আত্মদান আমাদের চিনিয়ে দিয়েছিলো যে আমরা বাঙালি। এ আন্দোলনের মধ্যেই বাঙালীর একাত্তরের স্বাধীনতার বীজ লুক্কায়িত ছিলো। ফলশ্র“তিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবি, ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলন, ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা এবং ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কন্ঠে, বেজে উঠে সেই মহাকাব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পংক্তি- “এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম.....”। এ আহ্বানে মুক্তিপাগল বাঙ্গালি সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে ৯ মাস পর ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য খচিত সবুজ পতাকা। তাঁরা বলেন, যে চেতনায় একুশের আন্দোলন সেই একই চেতনায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। তিনি মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতাকারী রাজাকার আলবদর তথা যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন। তাঁরা বলেন, দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন করতে পারলে বায়ন্নর শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে।

বক্তাগণ বলেন, আজ দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত। জাতির অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন মত ও পথের ভিন্নতা ভুলে গিয়ে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, দেশের উন্নতি, অগ্রগতি ও যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এ পথে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের আজকের তরুন প্রজন্ম। শাহবাগের প্রজন্ম চত্ত্বর থেকে এ ঘোষণা আজ সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা এ আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন এবং আন্দোলনের উদ্যোক্তা তরুণদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

নোবিপ্রবিতে আয়োজিত একুশের অনুষ্ঠানমালায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিলো স্বতস্ফুর্ত। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় মুনাজাত করা হয়।

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.