সর্বশেষ

নোয়াখালীতে বীজবর্ধন ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র হচ্ছে

আবু নাছের মঞ্জু, নোয়াখালী:
নোয়াখালীর উপকূলীয় চরাঞ্চলে বীজবর্ধন ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শষ্য ভান্ডার খ্যাত সুবর্ণচর উপজেলার চর মজিদে প্রায় ১০০ একর অনাবাদি জমিতে ওই বীজবর্ধন ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সংসদ সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলী গত মঙ্গলবার সরজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শণ করেন।
এ সময় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) চেয়ারম্যান ড. এসএম নাজমুল ইসলাম, সদস্য পরিচালক (বীজ ও উৎপাদন) নুরুজ্জামান, নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মো. আতাউর রহমান, সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিম সহ উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প এলাকা পরিদর্শণ শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সংসদ সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার নোয়াখালীল উপক’লীয় চরকে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, সুবর্ণচরে বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নোয়াখালী অঞ্চলের কৃষিতে নতুন দিগন্ত সূচিত হবে। এতে করে এ অঞ্চল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানসম্মত বীজের ঘাটতি পুরণ হবে এবং কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বিএডিসির নোয়াখালী কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কৃষি মন্ত্রনালয়ের পরিকল্পনা শাখার বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সভায় ২০১১-১২ অর্থবছরে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় একটি বীজ বর্ধণ ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। যার আলোকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সুবর্ণচরের চর মজিদের ১০০ একর খাস জমিকে প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়।
সুত্র জানায়, নোয়াখালীর দক্ষিনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষি জমি রয়েছে। কিন্তু ওইসব জমির মাটি বেলে-দোয়াষ প্রকৃতির হওয়া ওই মাটিতে পানি ধারণ ক্ষমতা কম। যার দরূন ওই মাটি ধান চাষাবাদের জন্য কিছুটা কম উপযোগী। আবার একই মাটিতে ডাল ও তৈলজাতীয় শস্য উৎপাদনের ব্যাবপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বীজবর্ধণ ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রটি স্থাপিত হলে কৃষকেরা আরো অধিক পরিমানে উন্নত জাতের ডাল ও তৈলজাতীয় শস্য উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পুর্ব চরবাটার খাসেরহাট এলাকার বর্গচাষী রফিক উল্লা ও সোলেমান হোসেন বলেন, প্রায় বছরই তাঁরা বাজার থেকে সয়াবিনসহ বিভিন্ন ডাল বীজ কিনে সমস্যায় পড়েন। বাজারের বীজের মান ঠিক না থাকায়, অনেক সময় যথাসময়ে চারা গজায় না; কিংবা ভাল ফলন হয় না। এ ক্ষেত্রে সরকার বীজ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের যে উদ্যোগ নিয়েছে এতে এলাকার হাজার হাজার কৃষক ব্যপকভাবে উপকৃত হবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) নোয়াখালী কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সেলিম হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, বীজবর্ধণ ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রটি স্থাপনের পর এখানে মৌলবীজের মাধ্যমে ভিত্তিবীজ উৎপাদন করা হবে। যা মাঠ পর্যায়ে ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) শাহ আলম বলেন, নোয়াখালীর দক্ষিনাঞ্চলে নতুন নতুন ভূমি জেগে উঠলেও সেখানকার মাটিতে লবনাক্ততার পরিমান বেশি। যার দরূন কৃষকেরা কাঙ্খিত ফসল ফলাতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে বীজ প্রক্রিয়াজতকরণ কেন্দ্রটি স্থাপিত হলে লবনাক্তসহিষ্ণু নতুন বীজ উদ্ভাবনেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে; আর তাতে কৃষকেরাও লাভবান হবেন।
#

 


লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.