সর্বশেষ

বিক্ষিপ্ত ঘটনায় পুলিশসহ আহত ১০ জন \ একজনের কারাদণ্ড নোয়াখালী পৌরসভার ১৪ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন


বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যদিয়ে নোয়াখালী পৌরসভার ১৪টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশের এক কনস্টেবলসহ আহত হয়েছে অন্তত ১০ ব্যক্তি। ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কয়েক রাউণ্ড ফাঁকা গুলি চালায়। এছাড়া নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এক যুবককে জেল কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৮টা থেকে শান্তিপুর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি কিছুটা অশান্ত হয়ে ওঠে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কিছু বহিরাগত পশ্চিম মাইজদী এলাকায় মাইজদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা চলায়।
সঙ্গে সঙ্গে আইন শৃঙ্ঘলা বাহিনীর সদস্যরা গোলযোগকারীদের ধাওয়া ধরা করে। এসময় গোলযোগকাররীদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে মুরাদুজ্জামান নামে পুলিশের এক কনস্টেবলের মাথা ফেটে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এক পর্যায়ে লাঠিচার্জ এবং তিন রাউণ্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে পুলিশ পরিস্থি সামাল দেয়। এ সময় পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে অন্তত ৫ ব্যক্তি আহত হন। বেলা সাড়ে বারটার দিকে নোয়াখালী প্রি-ক্যাডেট স্কুল কেন্দ্রের বাইরে লক্ষীনারায়নপুর এলাকায় ও নোয়াখালী আল ফারুক একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রর বাইরে সরকারি আবাসিক এলাকায় কিছু উশৃঙ্খল যুবক ককটেল ফাটিয়ে ভোটারদের মঝে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা চালায়। তাৎক্ষণিকভাবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ধাওয়া ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এসময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে ৫ ব্যক্তি আহত হয়।

নোয়াখালী প্রি-ক্যাডেট স্কুল কেন্দ্রে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা জানান, কেন্দ্র থেকে তিন’শ গজ দূরে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ককটেল ফাটালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক এ্যাকশনে যায়। বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরের টাউন হলের মোড়ে প্রধান সড়কে একদল লোক জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে স্টাকিং ফোর্সের সদস্যরা লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিকেল তিনটার দিকে এমএ রশিদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ নির্বচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শাহাদাত হোসেন (২৬) নামের এক যুববকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন। কেন্দ্র এলাকায় মটর সাইকেল চালানোর অপরাধে ওই যুবককে কারাগারে প্রেরনের পাশাপাশি তার ব্যবহৃত মটরসাইকেল ও কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।


একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলাকালে পৌরসভার ১৪টি কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৮১৯ জন ভোটারে মধ্যে অর্ধেকের বেশি ভোটার ভোটদান করেন। ভোট চলাকালে ভোটকেন্দ্র সহ আশপাশের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কেন্দ্র ভিত্তিক নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাবের ৬০ জন এবং বিজিবি’র ৪০ জনের একটি স্টাইকিং ফোর্স ভোটগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মাঠে অবস্থান করেন। প্রতিকেন্দ্রে একজন অফিসারে নেতৃত্বে ৩১জন পুলিশ ও ১০ জন করে আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকেন।

এরআগে নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ইসি থেকে কুমিল্লা অঞ্চলের উপ নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া নোয়াখালী জেলা সদরের বাইরের বিভিন্ন উপজেলা এবং ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, ব্রক্ষমনবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনীসহ বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে কমিশনের নিজস্ব ১৪ জন কর্মকর্তাকে ১৪টি ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গত ১৮ জানুয়ারি নোয়াখালী নির্বাচন চলাকালে ব্যালট ছিনতাই, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মারধরসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগে ২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টির ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এরপর কমিশনের নিজস্ব ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের পর স্থগিত হয়ে যাওয়া ১৪টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। বাকী তিন কেন্দ্রের ফলাফলের বৈধতা দিয়ে  তা গেজেট আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেয় কমিশন। এরপর বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হারুনুর রশিদ আজাদের রিট আবেদনের পে্িরক্ষতে হাইকোর্ট ওই তিন কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণাসহ সকল কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেন।


  • আবু নাছের মঞ্জু

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.