সর্বশেষ

সেনবাগের সবগুলো এবং নোয়াখালী পৌরসভার ১৭ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত পুন: ভোটের দাবিতে বিএনপির হরতাল \ আওয়ামী লীগের দাবি রিটানিং অফিসারের অপসারণ


আবু নাছের মঞ্জু, নোয়াখালী:
কেন্দ্র দখল, হামলা ভাংচুরের ঘটনায় নোয়াখালীর সাতটি পৌরসভার মধ্যে সেনবাগের সবগুলো কেন্দ্রের এবং নোয়াখালী পৌরসভার ২৫টির মধ্যে ১৭টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে নোয়াখালী ও সেনবাগ পৌরসভায় পুন:নির্বাচনের দাবিতে বুধবার পুরো জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্ব্বান করেছে বিএনপি। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনের রিটানিং অফিসারের অপসারণ দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। পরষ্পর বিরোধী অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে  জেলা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ।
সকাল থেকে জেলার সাত পৌরসভা  নোয়াখালী, চৌমুহনী, সেনবাগ, চাটখিল, কবিরহাট, বসুরহাট ও হাতিয়ায় সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। কেন্দ্র দখল ও দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভায় চার দলীয় জোটের মেয়র প্রার্র্থী হারুনুর রশিদ আজাদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গোটা জেলা শহর অশান্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে অন্তত: ৩০ জন আহত হয়। এ সময় বিএনপি কর্মীরা সোনাপুর- চৌমুহনী সড়কে গাছ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। বিক্ষুদ্ধ কর্মীরা মাইজদী বাজার এলাকায় রিটানিং অফিসারের গাড়ি ভাংচুর, জেলা আওয়ামীলীগ অফিসে হামলা, শহর যুবলীগের সহসাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিনের একটি মাইক্রেবাস ও দুটি মটর সাইকেলে আগুনে ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর ভ্রাম্যমান টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলে তাদের সাথে বিক্ষুদ্ধ বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।  এ সময় প্রধান সড়ক, ইসলামিয়া রোড, টাউন হল মোড়, পুরাতন বাসষ্ট্যান্ডসহ গোটা জেলা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শহরের দোকানপাট ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।


অন্যদিকে আওয়ামী লীগ কর্মীরা সোনাপুরে শহর বিএনপির সহসভাপতি ও কাউন্সিলর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে চালায়। বেলা দুইটার দিকে বিক্ষুদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিএনপির কেন্দ্রিয় যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহানের রশিদ কলোনির বাসায় হামলা চালায়। এসময় উপস্থিত জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাবের আহম্মদ-সহ পাঁচজন আহত হয়।

এর আগে দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রিয় যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহানের বাসায় জেলা বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে বিএনপি নেতারা কেন্দ্র দখল ও দলীয় কর্মীদের ওপর প্রতিপক্ষের প্রতি হামলার অভিযোগ আনেন। সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালী ও সেনবাগে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে বুধবার পুরো জেলায় সকাল- সন্ধ্যা আহব্বান করা হয়। এসময় জোটপ্রার্থী হারুনুর রশিদ আজাদ সহ বিএনপি নেতারা বক্তব্য রাখেন। সন্ধ্যায় হরতালের সমর্থনে বিএনপি জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে।

অপরদিকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী গোলাম মহিউদ্দিন লাতু অভিযোগ করেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি গোটা শহরে তান্ডব চালিয়েছে। সশস্ত্র অবস্থায় সারা শহরে প্রকাশ্যে ভাংচুর, ব্যালট বাক্স ছিনতাই করলো এখন দোষ চাপাচ্ছে আওয়ামীলীগের ঘাড়ে। দুই/তিনটি কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে বিভেদের কারণে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। তিনি রিটানিং অফিসার মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বে অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করেন।

এদিকে সেনবাগ পৌরসভার বিভিন্ন কেন্দ্রে ক্ষমতাশীন দলের সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার, ব্যাটল পেপার ছিনিয়ে নেওয়া এবং বিএনরি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। এনিয়ে সেনবাগ সরকারি কলেজ কেন্দ্র, সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, কাদরা হামেদিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রসহ ৫-৬টি কেন্দ্রের আশেপাশে বিক্ষিপ্ত দুইপক্ষের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসব ঘটনায় অন্তত ৭-৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ৮নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী সাংবাদিক খোরশেদ আলমের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
জেলা প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতিটি ঘটনায় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেন নিয়েছে। সঙ্গত কারণেই নোয়াখালী পৌরসভার ২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি কেন্দ্র এবং সেনবাগ পৌরসভার ০৯টি কেন্দ্রেরে ভোটই স্থগিত করা হয়েছে।

#

  • আবু নাছের মঞ্জু

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.