আবু নাছের মঞ্জু, নোয়াখালী:
নোয়াখালীর সাতটি পৌরসভার মধ্যে তিনটিতে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থীরাই জোট মহাজোটের প্রার্থীদের জয় পরায়য়ের ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ভোটারদের আশংকা। ওই তিন পৌরসভায় মহাজোটের অংশীদার জাতীয় পার্টি মেয়র পদে একক প্রার্থী দিয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছে। তিন পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপিরও একজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। আর হাতিয়া পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামী লীগ। ফলে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচনে ওই পৌর সভাগুলোতে নিজ দলের কিংবা জোটের প্রার্থীই জয়-পরাজয়ের কারণ হতে পারে বলে ভোটারদের আশঙ্কা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চৌমুহনী পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয় দলের উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি মামুনুর রশীদ কিরনের (টেলিফোন) প্রতি। এখানে আওয়ামী লীগের আরো একাধিক ব্যক্তি মনোনয়নপত্র দাখিলের পর পরে প্রত্যাহার করে নিলেও প্রার্থীতা বহাল রাখেন মহাজোটের শরিকদল জাতীয় পার্টির এ বি এম ইউসুফ। তিনি লড়ছেন কাপ-পিরিছ প্রতীক নিয়ে। অন্যদিকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের জরুরী সভায় বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
এই পৌরসভায় বিএনপি থেকে সমর্থন জানানো হয় জুলফিকার আলী ভুট্টোর প্রতি (চশমা)। তিনি পুর্বে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার কয়েক মাস আগ থেকে বিএনপির সঙ্গে রয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে মাঠে লড়ছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আজিম সুমন (দেয়াল ঘড়ি) প্রতীক নিয়ে। তবে; স্থানীয় সাংসদ বরকত উল্লা বুলু দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভুট্টোর পক্ষে গনসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে প্রার্থীতার জন্য গত সোমবার (১০ জানুয়ারি) কেন্দ্র থেকে প্রেরিত পত্রের মাধ্যমে সুমনকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ সহ সকল পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
সেনবাগ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ থেকে শেষ মুহুর্তে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয় দলের উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর টিপুকে (দোয়াত-কলম)। এখানে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা সভাপতি তালেবুজ্জামান (দেয়াল ঘড়ি)। আবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পদক আবুল কাশেম (তালা) ও যুবলীগ থেকে বহি®কৃত মোশারফ হোসেনও (আনারস) প্রার্থী হয়েছেন মেয়র পদে। তাঁরা অবশ্য নিজ নিজ পরিচয়েই ভোট চাইছেন বলে জানা গেছে।
এই পৌর সভায় বিএনপি থেকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয় পৌর সাধারণ সম্পাদক ফারুক বাবুলকে (টেলিভিশন)। কিন্তু তাঁর প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপি বিদ্রোহী নেতা কাজী মফিজুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাবেক ছাত্রনেতা মফিজুল ইসলাম ওরপে ভিপি মফিজ (কাপ-পিরিছ)।
চাটখিল পৌরসভায় আওয়ামী লীগ থেকে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে (আনারস) দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়। এখানেও মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি একক প্রার্থী দিয়েছে ফজলুল করিম বাচ্চুকে (দোয়াত-কলম)। এখানে বিএনপি দলীয় সমর্থন দেয় গোলাম মোস্তফাকে (তালা)। তাঁর প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিদ্রোহী নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া (দেয়াল ঘড়ি)। স্থানীয় সাংসদ মাহবুব উদ্দিন খোকন গোলাম মোস্তফার পক্ষে রয়েছেন।
হাতিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয় ছাইফ উদ্দিন আহম্মেদকে (জাহাজ)। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউছুফ আলী (তালা)। জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইউছুফের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা চালাচ্ছেন।
গত সোমবার (১০ জানুয়ারি) জেলা আওয়ামী লীগের জরুরী সভায় বিদ্রোহী প্রার্থী ইউছুফ আলীকে সংগঠন থেকে বহিস্কার এবং তার পক্ষে কাজ করায় জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।
জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন আজাদ তিন পৌরসভায় একক প্রার্থী ঘোষনা করার প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা মহাজোটে আছি। কিন্তু পৌর নির্বাচনে প্রার্থীতার বিষয়ে আমি ব্যক্তিগত ভাবে আওয়ামী লীগের জেলা নেতাদের কথা বলেও এই বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে ইতিবাচক কোন সাড়া পাইনি। তাই আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই তিন পৌরসভায় আমাদের প্রার্থী দিয়েছি।’
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মহাজোটের শরিক জাতীয় পাটির সঙ্গে পৌর নির্বাচনে প্রার্থীতা ভাগাভাগির বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোন সুষ্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। তাই আমাদের এই বিষয়ে করনীয় কিছু ছিল না। তবে; জাতীয় পার্টি একক প্রার্থী দিলেও তাঁ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে ভুমিকা রাখার সম্ভাবনা ক্ষীন।’
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দল থেকে যে প্রার্থীকে সর্মথন জানানো হয়েছে তাঁর পক্ষে সকল নেতাকর্মীই কাজ করবে। যাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তাঁরা নিজ দায়িত্বেই হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দলের শৃংখলা ভঙের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Wednesday, January 12, 2011
Browse » Home »
চলতি সংবাদ
» হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামী লীগ নোয়াখালীর তিন পৌরসভায় জোট মহাজেটের একাধিক প্রার্থী মাঠে