সর্বশেষ

বোরো বীজ নিয়ে নোয়াখালীতে সরকারি বিভাগ ও কৃষকদের ভিন্ন বক্তব্য

নোয়াখালীতে এবার ৬১ হাজার ১৬৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর। আর এ লক্ষ্য অর্জনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে জেলায় ৩ হাজার ৭২১ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন কৃষকরা।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেমনের (বিএডিসি) ভাষ্যমতে- কৃষকদের মাঝে সুলভ মূল্যে বিতরনের জন্যে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত বীজের ৭৫ ভাগ ইতোমধ্যে ডিলারদের মাধ্যমে বিতরন করা হয়েছে এবং জেলার কোথাও বোরো ধানের বীজের সংকট নেই। অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের অভিযোগ-ডিলারদের কারসাজিজ সহ নানা রকম অনিয়মের কারনে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত বীজ অনেকাংশেই তাদের নাগালের বাইরে রয়ে যাচ্ছে। আর বিভিন্ন কোম্পানির বীজের মূল্য এবং গুনগত মান এ দুইয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাকের কারনে এসব বীজ নিয়েও তারা (কৃষকরা) স্বস্তিতে নেই।

সদর উপজেলার আজিজ উল্যাপুর গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন জানান, এবার তিনি নিজের এবং বর্গা মিলিয়ে মোট তিন একর জমিতে বোরো চাষ করছেন। আর এজন্য শুরুতে ডিলারদের কাছে ধর্ণা দিয়েও সরকারি বীজ না পেয়ে তিনি বাজার থেকে উচ্চমূল্যে কোম্পানির বীজ কিনতে বাধ্য হয়েছেন। সুবর্ণচর উপজেলার কৃষক আবদুল হালিম জানান, ডিলারদের মাধ্যমে সরকারিভাবে সুলভমূল্যে বিতরনের জন্য যেসব বীজের আসছে, একই রকম বীজ বাজারে বিভিন্ন কোম্পানি প্যাকেটজাত করে কয়েক গুন বেশি দামে বিক্রি করছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)’র উপ-পরিচালক আনন্দ চন্দ্র দাস জানান, নোয়াখালীর ৯ উপজেলায় কৃষকদের মাঝে সুলভ মূল্যে বিতরনের জন্যে তারা সাড়ে পাঁচশ টন বোরো ধানের বীজের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পেয়েছেন পাঁচশ টন বীজ। প্রাপ্ত বীজের প্রায় ৭৫ ভাগ এরই মধ্যে উপজেলা ওয়ারি ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। তাঁর মতে- জেলার কোথাও এবার বোরো ধানের বীজ সংকট নেই। আর এনিয়ে কোন অনিয়মের খবরও তিনি পাননি।
জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) নৃপেন্দ্র কুমার সরকারের মতে- এখনো দেশের অন্যান্য জেলার মতো নোয়াখালীতে চাষাবাদের জন্য ৮০ ভাগের মতো বীজ কৃষকরা নিজেরাই সংরক্ষিত বীজ থেকেই ব্যবহার করছেন। আর বাকি ২০ ভাগের মধ্যে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ১০ ভাগ এবং ১০ ভাগ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বীজ থাকতে পারে। তিনি মনে করেন- মূল্য এবং মান নিয়ে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বীজ নিয়েই কৃষকদের মাঝেমধ্যে সমস্যায় পড়তে হয়। ডিডি বলেন, বীজ নিয়ে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাঠ পর্যায়ে আমাদের লোকজন কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত বীজ নিয়ে ডিলারদের কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএডিসি বীজ ও সার এসোসিয়শনের জেলা সভাপতি মো. সাহাব উল্যা। তিনি বলেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনেই আমরা ডিলাররা বীজ বিতরন করছি। সরকারিভাবে আমাদের মনিটরও করা হয়ে থাকে। সুতরাং এখানে বড় ধরনের কোন অনিয়মের সুযোগই নেই।

উপ-পরিচালক, কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর: ০১৭১১৭০১৪২৯
উপ-পরিচালক, বিএডিসি : ০১৭১১১৬০২২
সভাপতি, বিএডিসি বীজ ও সার এসোসিয়শন: ০১৭১৩৬১৫৪৬৯।

#

  • আবু নাছের মঞ্জু

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.