সর্বশেষ

কেউ কথা রাখেনি.......... শিশুপার্কের আশ্বাস ফাঁকা বুলি পৌর উদ্যানটি গোচারণ ভূমি!


আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে আসছেন এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে খোদ প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত। কিন্তু কথা রাখেনটি কেউই। সুনিল গঙ্গপাধ্যায়ের কবিতায় কেউ কথা না রাখার ৩৩ বছর নয়; তারও অনেক বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্টদের আশ্বাস অনুযায়ী নোয়াখালীতে একটি শিশুপার্ক গড়ে উঠেনি। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সংস্কারের অভাবে জেলা শহরের একমাত্র পৌর উদ্যানটিও এখন পরিত্যাক্ত হয়ে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংগ্লন দীঘির চারপাশের এলাকাকে ঘিরে ১৯৮৬ সালে নোয়াখালী পৌর উদ্যানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। ১৯৯১ সালে তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান নুরন নবী ভূঞা উদ্যানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ১৪শ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৬৪ ফুট প্রস্থের উদ্যানটির পশ্চিম অংশে শিশু কিশোরদের বিনোদনের জন্য বেশ কিছু দোলনা, স্লিপার, ঝুলন্ত রিংসহ অন্যান্য সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শিশুদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে এখন বেড়ে উঠেছে ঝোঁপঝাড়। সামান্য বৃষ্টিতে উদ্যানটি জমে থাকা পানি ও কাদায় একাকার হয়ে থাকে। বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো উদ্যানটি জলমগ্ন হয়ে থাকে। একটি চক্র চারপাশের গ্রীলগুলো ভেঙ্গে নিয়ে যাওয়ায় উদ্যানটি এখন গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
নিরুপায় হয়ে শিশুরা বিকেলের অবসর সময় কাটাতে উদ্যানের দক্ষিন পাশে নোয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মারক স্বরণীতে ভীড় জমায়। কিন্তু সেখানেও এখন আর শিশুদের বেড়ানোর উপযোগী পরিবেশ নেই। দীর্ঘদিন থেকে শহীদ মিনার এলাকাটি মাদকসেবী, বখাটে ও ভ্রাম্যমান মানুষের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়ে আছে। তবুও পার্কের অভাবে শিশুরা শহীদ মিনারের সিঁড়ি, বেদী, রেলিংয়ে খেলাধূলা ও ছুটোছুটি করে সময় কাটায় যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় যেকোন মুহুর্তে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
শহীদ মিনার এলাকায় বেড়াতে আসা শিশু রাকিব জানায়-“আমার বেড়াতে ভাল লাগে। আমাদের এখানে একটা শিশুপার্ক থাকলে খুব মজা হতো। আমি প্রতিদিন বিকেলে এসে খেলতে পারতাম।” মাহি (১০) জানায়-“শহীদ মিনারে বড়রা বসে থাকেন। তাই এখানে আমাদের খেলতে ভাল লাগে না। শিশুপার্ক নেই বলেই আমরা এখানে খেলতে আসি। ”
শিশুপার্ক না থাকা প্রসঙ্গে জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা ফৌজিয়া সুলতানা জানান, জেলা শহরের শিশুরা বিকেলে সময় কাটানোর জন্য শহীদ মিনারের সিঁড়ি, বেদী ও রেলিংয়ে যেভাবে ছুটোছুটি করে তাতে একদিকে শহীদ মিনারের মর্যদা ক্ষুন্ন হচ্ছে; অন্যদিকে এতেকরে যেকোন মুহুর্তে শিশুরা দুর্ঘটনার শিকারও হতে পারে।
নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র মোঃ হারুনুর রশীদ আজাদ জানান, কোর্টবিল্ডিং দীঘির পাড়ের উদ্যানটিতে আধুনিক রূপ দিতে এবং এর সৌন্দর্য্য বর্ধনের পৌর কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। শিশুপার্ক নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে তা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে কিছু দিনের মধ্যে পার্কের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে প্রায় এক কোটি টাকার বরাদ্দ ছাড় দেয়ার কথা রয়েছে। বরাদ্দকৃত টাকা হাতে পেলে চলতি বছরই পার্কের কাজ শুরু করা হবে।


  • আবু নাছের মঞ্জু

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.