সর্বশেষ

আজ ১১৮ জন শহীদের রক্তস্নাত সোনাপুর, শ্রীপুর ও মহব্বতপুর গণহত্যা দিবস

আবু নাছের মঞ্জু, নোয়াখালী:
আজ ১৫ জুন। একাত্তরের এদিন পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আলবদর বাহিনী নোয়াখালী সদর উপজেলার সোনাপুর, শ্রীপুর ও মহব্বতপুরে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে।

সেদিনের সেই ভয়াল দিনে প্রতক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ২টার দিকে দুপুরের খাওয়ার সময় হায়নাদের গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আতংকিত লোকজন সবকিছু ফেলে রেখে প্রাণভয়ে এদিক সেদিক পালিয়ে যেতে শুরু করে। কিন্তু ততক্ষনে পুরো এলাকা হানাদার বাহিনী ঘিরে ফেলে।

মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার ফজলুল হক বাদল জানান, ঘটনার কিছুদিন আগে এলাকার মুক্তিকামী জনতা বৃহত্তর নোয়াখালী মুজিব বাহিনী(বিএলএফ) প্রধান মামুদুর রহমান বেলায়েতের নেতৃত্বে জেলার সরকারি অস্ত্রাগার লুঠ করে সোনাপুর দিয়ে পূর্বাঞ্চলে নিয়ে যায়। তারই জের ধরে হানাদাররা এ হত্যাযজ্ঞ চালায়। তিনি আরো জানান, হায়নারা শ্রীপুরে ডুকতেই আহমদিয়া হাইস্কুলের সামনে পেয়ে আলী হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর স্কুলের পেছনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ভাই আলী করিম, আলী হায়দারসহ বাড়িতে থাকা এক অতিথিকে গুলি করে হত্যা করে। এরআগে তাদের পিতা সৈয়দ মুন্সি গলায় কোরআন শরীফ ঝুলিয়ে ছেলেদের প্রাণভিক্ষা চাইলে হায়নারা তাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিয়ে পিতার সামনে ছেলেদের হত্যা করে। এরপর ব্যাপক লুটপাট করে পুরো বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।

হায়নারা দক্ষিণ সোনাপুরের হোমিও ডাক্তার আবু ফররার দোকানে গিয়ে ডাক্তারকে এবং সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা এক মা তার ২ মাসের শিশু কন্যাকে হত্যা করে। এদিনের শহীদদের মধ্যে খ্রিষ্টান ধর্মাবলী জোশেফ সোয়ারিশও ছিলেন। হায়নারা দেবেন্দ্র দাস মুচির হাতে জুতা পালিশের পর এবং এক পথচারীর হাতে পানি পান করার পর তাদের দু’জনকেই হত্যা করে।

২৫ মিনিট স্থায়ী হানাদারদের এ তান্ডবে ১১৮ জন মুক্তিকামী মানুষ শহীদ ও অসংখ্য বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাদের পাশবিক লালশার শিকার হন অনেক মা-বোন।

এ দিনের শহীদদের স্মরণে নোয়াখালী পৌরসভার অর্থায়নে একটি স্মৃতিসৗধ নির্মাণ করা হয়। দিনটি স্মরণে মসজিদ, গির্জা ও মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এছাড়া শহীদদের পরিবার স্বজনদের জন্য অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করেছে।

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.