সর্বশেষ

পরিবেশ আইন লঙ্ঘন।। জেলা প্রশাসককে আদালতের নোটিশ।। মানববন্ধন বিক্ষোভ আন্দোলন অব্যাহত


মোঃ শরফুদ্দিন শাহীন, কোম্পানীগঞ্জ থেকে:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নে পরিবেশ আইন অমান্য করে “পপি ব্রিকস” ফিল্ড নামের ইট ভাটার মালিককে ইট পোড়ানোর লাইসেন্স দেয়ায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও পপি ব্রিকস ফিল্ডের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে আদালতে রিপ্রেজেন্টেটিভ এ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ১ সদস্যের কমিশন গঠন করে সরোজমিনে কমিশন পাঠায়। শুক্রবার সকালে আদালত থেকে এডভোকেট মোঃ শাহাদাত হোসেন কমিশনার হিসাবে চাঁড়াভিটি সংলগ্ন পপি ব্রিক্স এর সম্মুখে এসে স্থানীয় পরিদর্শন করেন।
এ সময় পপি ব্রিক্স নামের ইটের ভাটার আশে পাশে ও প্রধান সড়কে শত শত নারী-পুরুষ ইটের ভাটা অপসারণের দাবীতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। ইট ভাটার পাশেই প্রধান সড়ক বসুরহাট-কবিরহাট সড়কে বিশাল ব্যানার ও নানা বর্ণের পোষ্টার প্রদর্শন করে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন করে।



সরেজমিনে দেখা যায়, “পপি ব্রিক্স” এর স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুস সাত্তারের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২২ মার্চ নোয়াখালী জেলা প্রশাসক প্রতিষ্ঠানটিকে ইট পোড়ানোর লাইসেন্স প্রদান করেন। লাইসেন্স প্রদানে পরিবেশ আইনের ৪ ও ৫ এর ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ করে গত ১ এপ্রিল’১০ মেসার্স আরাফাত এগ্রো ইকথায়ো লিঃ এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব তানজিদা নূর, পল্লী বিদ্যুতের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ও স্থানীয় জামেয়া ইসলামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুজিব উল্যাহ্ বাদী হয়ে বিজ্ঞ নোয়াখালী জেলা জজ আদালতে রিপ্রেজেন্টেটিভ এ্যাক্ট-এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-দেওয়ানী ৪১/২০১০। মামলায় বিবাদী করা হয় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও ইটের ভাটার মালিক আব্দুস সাত্তারকে। একই দিন আাদালত জেলা প্রশাসককে নোটিশ প্রদানসহ একটি সিভিল কোর্ট কমিশন (স্থানীয় পরিদর্শন) গঠন করে। এই কমিশনে এডভোকেট মো: শাহাদাত হোসেনকে কমিশনার হিসেবে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় এবং ২৬ এপ্রিল’১০ শুনানির দিন ধার্য করা হয়। দায়িত্ব পেয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় কমিশনার সরেজমিন তদন্তে এসে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন। এসময় এলাকার শতশত নারী পুরুষ রাস্তার দুইধারে ব্যানার, পোষ্টার হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন রচনা করে ইটের ভাটা বন্ধ করার দাবী জানায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ ইটের ভাটার কারনে আশে পাশের মৎস্য খামার, আশে-পাশের কয়েকটি পোল্ট্রি শিল্প, ফলজ ও বনজ গাছের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হচ্ছে। এছাড়াও উত্তোলনাধীন সুন্দলপুর তেল-গ্যাস ক্ষেত্র, পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্র এবং কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাসহ আবাসিক ঘর বাড়ি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আশ পাশের বাড়ির ছোট শিশুরা মারাত্মক শ্বাসকষ্টে ভূগছে বলে কমিশনের কাছে অভিযোগ করেন। এলাকাবাসী দূর্ণীতিবাজ নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের অবিলম্বে অপসারণ দাবী করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.