সর্বশেষ

ভাংচুর লুটপাট অগ্নিসংযোগ নোয়াখালীতে শহীদ মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ।। নিহত ১।। আহত ৩০

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার আমিশাপাড়া বাজারে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে শাহ আলম(৪০)  নামে এক ব্যবসায়ী নিহত এবং উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। সোনাইমুড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ নিহত শাহ আলম তাদের দলীয় কর্মী বলে দাবি করে। এ সময় দোকানপাটে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরো আমিশাপাড়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে সোনাইমুড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য রওনা হলেও পথে পথে বিক্ষুদ্ধ লোকজনের ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারনে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়। রাত ২টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ভোর ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোনাইমুড়ির আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কৃষক উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংষর্ষের এক পর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ লোকজন আমিশাপাড়া বাজারের শাহ আলমের হোটেল রেস্তোরায় হামলা ও ভাংচুর চালায়। এক পর্যায়ে হালাকারীরা শাহ আলমকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে।  আশংকাজনক অবস্থায় শাহ আলমকে বজরা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি আরো অশান্ত হয়ে উঠার আশংকায় সোনাইমুড়ি থানা পুলিশ গ্রামের বাড়ি থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার জেলা সদরের সুধারাম থানায় নিয়ে আসে। সেখানে সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এদিকে শাহ আলমের মৃত্যুর খবরে আমিশপাড়াসহ পুরো সোনাইমুড়ি উপজেলায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় হামলাকারীরা আমিশাপাড়া বাজারে আওয়ামী লেিগর জাহাঙ্গীরের ফার্মেসি, আলমের হোটেল, বিএনপি’র মামুনের ফার্মেসি, তৌহিদের ডুলি দোকান, সাধারন ব্যবসায়ী বাবুলের চায়ের দোকান, স্বপনের পান দোকান, সিরাজের পান দোকানে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় বিএনপি ক্যাডাররা আমিশাপাড়া ইউনিয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সুমনের মোটল সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়।

সোনাইমুড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আ.ফ.ম বাবুল জানান, একুশের প্রথম প্রহরে বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক তৌহিদ ও বাবলুল নেতৃত্বে ১৫-১৬টি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় একদল বিএনপি ক্যাডার আমিশপাড়া বাজারে বোমা পাটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে সাধারন ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী ও ব্যবসায়ী শাহ আলমকে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি অভিযোগ করেন এসময় বিএনপি ক্যাডাররা বাজারে ব্যাপক লুটপাট চালায়। অন্যদিকে সোনাইমুড়ি উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আনোয়ারুল হক কামাল নিহত শাহ আলমকে তাদের দলীয় কর্মী দাবি করেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা আমিশাপাড়া বাজারে বিএনপি’র নেতাকর্মীদেে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের বোমা হামলার কারনে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনে বিলম্বের সুযোগে ক্যাডাররা বিএনপি সমর্থিত ব্যাবসীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্তণে রেখেছে। ফের সংঘাত সংঘর্ষ এড়াতে আমিশাপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.