সর্বশেষ

কবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসা হবে

আবু নাছের মঞ্জু ও শাহেদুল ইসলামঃ 
নানা সংকট ও সিমাহীন অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ৬ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পওয়ার একমাত্র ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র  জানায়, দ্বীপবাসীর স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালে উপজেলা সরকার সদর ওসখালীতে ৩১ শয্যার হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু শুরু থেকেই কমপ্লেক্সটিতে একদিকে প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্সসহ জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট অন্যদিকে একের পর এক সীমাহীন অনিয়ম অব্যবস্থাপনা বাসা বাঁধতে থাকায় দ্বীপবাসী কাঙ্খিত স্বাস্থসেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে।
এতসব সমস্যার মধ্যেই ২০০৬ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০০৮ সালে কমপ্লেক্সের সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণেও নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে সরকারের জরুরী প্রসূতি সেবা কার্যক্রমের আওতায়  এনে এজন্য কোটি টাকা মূল্যের চিকিৎসা সরজ্ঞাম সরবরাহ করা হলেও স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নার্স না থাকায় তা কোন কাজেই আসছেনা। উপরন্তু আনাড়ি ডাক্তারের হাতে পড়ে প্রতিনিয়ত প্রাণ দিতে হচ্ছে প্রসূতি নারীদের। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২২ লাখ টাকা মূল্যের নৌ- এম্ব্যুন্সটি চালকের অভাবে গত ২ বছর থেকে অকেজো হয়ে স্থানীয় তমরুদ্দি কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট অফিস সংলগ্ন পুকুরে পড়ে আছে।

হাতিয়া উপজেলা সদরসহ দ্বীপের বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে উপজেলা কমপ্লেক্সেটির আউটডোরে

দৈনিক দুই থেকে তিনশ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়া কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যাও গড়ে ৫০ জনের মতো হবে। ভর্তিকৃত রোগীরা জানান, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারর না থাকয় তারা যথাযথ চিকিৎসা সেবা চাচ্ছেন না। অন্যদিকে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসর ডা: নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অফিস সময়ে রোগীদের নিয়মীত রাউণ্ড না দিয়ে আউটডোরে ফি নিয়ে রোগী দেখা, রুমে বিভিন্ন ওষুদ কোম্পানির এমআরদের সাথে গল্প করা ও তাদের কাছ থেকে মাসোহারা নেয়া, হাসপাতালে দালাল লালন, সরকারি প্যাথিডিন বাইরে বিক্রি করা এবং রোগীদের জন্য খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার থেকে টাকা আদায়সহ নানা রকম অভিযোগের অন্ত নেই। ভর্তিকৃত রোগী রজিনা আক্তার, জাফর উদ্দিন, আয়েশা আক্তার ও মোবারক হোসেন জানান, তাদের খুবই নিন্মমানের খাবার দেয়া হয় ।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ১০টি পদের মধ্যে সবগুলো পদই এখন খালি। উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাত্র ৩ জন ডাক্তার দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। নার্সদের ১৬টি পদের মধ্যে ১৫টি এবং সুইপারদের ৫টির মধ্যে ৪টি পদই শূণ্য। এছাড়া প্রধান সহকারী একাউনটেন্ট, স্টোরকিপার, মেডিকেল টেকনোজিষ্ট (ল্যাব), মেডিকেল টেকনোজিষ্ট (ফিজিও), জুনিয়র মেকানিক, কাডিওগ্রাফার, কম্পাউন্ডার ল্যাব, এটেনডেন্ট, সহকারী সেবক, ওটিবয়, সিকিউরিটি গার্ড, কুক এবং বাগান মালী সবগুলো পদই বছরের পর শূণ্য রয়েছে। অফিস সহকারীর ৩টির মধ্যে ২টি, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৪টির মধ্যে ৪টি, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ১৩টির মধ্যে ৯টি, স্বাস্থ্য সহকারীর ৬৫টির মধ্যে ২২টি, এমএলএস এর ১০টির মধ্যে ৫টি পদ শূণ্য রয়েছে। দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটি শূণ্য থাকার পর ৯ মার্চ এপদে ডাঃ মোহাম্মদ তাজিম উদ্দিন যোগ দিলেও মাত্র আট মাসের মাথায় তিনিও বদলী হয়ে চলে যান।

এ অবস্থায় উপজেলা কমপ্লেক্সেটিতে কার্যত চলছে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজিম উদ্দিনের শাসন। শোনা যাচ্ছে তার সাথে জোট বাঁধতে শাস্তিমূলক বদলীস্থল থেকে আবার হাতিয়া ফিরে আসছে সেই আলোচিত মেডিকেল অ্যাসিষ্টেন্ড ইকবাল আনসারী। মাত্র ৪ মাস আগে এ ইকবাল আনসারী ফোরসেপ ডেলিভারীরর নামে এক প্রসূতির পেটের মধ্যে নবজাতকের মাথা রেখে দিয়ে দেহ খণ্ড বিখণ্ড করে বাকি অংশ বেরছিলেন। পরে মমূর্ষ অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপালালে অপারেশনের মাধ্যমে নবজাতকের গলিত মাথা বের করা হয়েছিল।

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.