সর্বশেষ

মাদকের জোয়ারে ভাসছে নোয়াখালী

।। আবু নাছের মঞ্জু ।।
নোয়াখালীনোয়াখালীতে মাদকের বিক্রি ও ব্যবহার আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। নানা কারনে মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা গোয়েন্দা শাখা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। সংশিষ্ট সূত্র জানায়, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি দলের অনেক নেতাকর্মী মাদক ব্যবসার জড়িয়ে পড়ায় এর ভয়াবহতা গত কয়েক বছরের তুলনায় আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। আর এ কারণে জেলার ৯ উপজেলায় বিভিন্ন স্পটে অবাধে মাদক বিক্রি ও সেবন চললেও প্রশাসন অনেকটা অসহায়ের মতো ভূমিকা পালন করছে।

মাদক ব্যবসায়ীরা পুরো জেলায় বিভিন্নভাবে দেয়ালে সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে ও চিকা মেরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করে এর মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলায় খুব সহজেই মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। আর কোন কারণে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে পুলিশকে ম্যানেজ করে অথবা শাসক দলের নেতাদের সহযোগীতায় ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। একান্তই কোন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে পাঠালেও আইনের ফাঁক দিয়ে তারা প্রথম তারিখেই জামিনে বের হয়ে আবার নির্বিঘেœ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর জেরার বিভিন্ন স্পটে মাদকের সহজলব্যতার কারনে মাদক সেবনকারীর সংখ্যাও বাড়ছে আশংকাজনক হারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর পাঁচরাস্তার মোড়, শিল্পকলা একাডেমীর দক্ষিণের মোড়, মাইজদী কোর্ট স্টেশন, হাকিম কলোনীর মোড়, জেলা কালেক্টরেট ভবনের সামনের পার্ক, শহীদ মিনার চত্ত্বর, হর্কাস মার্কেট, মধুপুর, আনছার ক্যাম্প সড়ক, জেলা কারাগারের সামনের মোড়, নতুন বাসস্টাণ্ড, দেবালয়, জহুরুল হক মিয়ার গ্যারেজ, রাজারামপুর খালপাড়, শান্তি নগর, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল এলাকা, গণপূর্ত বিভাগের পিছনের রাস্তা, মাইজদী বাজার, হরিনারায়নপুর, সোনাপুর কাটপট্টি, পাতালপুরি, দত্তের হাটের ছাগলমারা পোল, একলাশপুর বাজার, গাবুয়া, বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনীর করিমপুর, গনিপুর, চৌরাস্তাসহ জেলার অন্তত দুই শতাধিক স্পটে এসব মদ, গাঁড়া, ফেনসিডিল, চরোস, হিরোইনসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবন হচ্ছে। আর এসব মাদকসেবিরা চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, ধর্ষণসহ নানা রকম সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছে। গত মাসে সোনাপুরের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে এমপি মাদকের সাথে জড়িতদের কঠোরহস্তে দমনের আশ্বাস দেন। এমপির সে আশ্বাসের পরও তেমন কোন ফল পাওয়া যায়নি বলে এরাকাবাসীর অভিযোগ। অন্যদিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার গাবুয়া ও একলাশপুরে মাদক বিক্রেতা, মাদকসেবী ও এলাকাবাসীর সাথে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গাবুয়া এলাকার একদল মাদকসেবি নুরুল হক তোতা নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জকম করে। ৩ নভেম্বর বেগমগঞ্জ উপজেলার গাবুয়া বাজারে স্থানীয় জনতা মাদক বিক্রেতাদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এরআগে মাদকের বিরুদ্ধে লেখা পত্রিকা বিক্রি করলে মাইজদী বাজারেরর সংবাদপত্র এজেন্ট শহীদুর রহমান লিটকে ফোনে হত্যার হুমকি দেয় মাদক বিক্রেতারা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে মাদক বিক্রেতাদের সাথে কথা কাটাকাটি নিয়ে সদর উপজেলা কাউন্সিল ও রহুরুল মিয়ার গ্যারেজে পৃথক সংঘর্ষে ২ জন আহত হয়।

একাধিক সূত্র জানায়, কুমিল্লার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে আসা এসব মাদক নোয়াখালী-কুমিল্লা রুটের উপকূল বাস ও নোয়াখালী একপ্রেক্স ট্রেনের মাধ্যমে নোয়াখালীতে আসছে। এছাড়া চাঁদপুর নদীপথ দিয়ে আসা মাদকদ্রব্য মাইজদী-রামগঞ্জ রুটের জননী বাস সার্ভিসে, চট্টগ্রাম থেকে মেঘনা নদী দিয়ে সোনাপুর স্টীমার ঘাট রুটের বাস সার্ভিসে ও ফেনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে আসা মাইজদী-ফেনী রুটের সুগন্ধা বাস সার্ভিসের মাধ্যমে নোয়াখালীতে মাদক আসছে। এছাড়া বালুর ট্রাক, সবজির ট্রাক, পিকআপ, ঠুলিবাঁশের ট্রাক, ধান ও চালের ট্রাক, মাছের খাদ্যের ট্রাকে করে এসব মাদক আসছে। আর এসব বাস সার্ভিসের উপর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি না থাকায় মাদক বিক্রেতারা খুব সহজেই মাদক আনতে সক্ষম হচ্ছে। মাদকের এ ভয়াবহতায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা জানান, তাদের স্কুল পড়ুয়া ছেলেদের নিয়ে তারা খুবই চিন্তিত। কারণ মাদকের যে ভয়াবহতা তাতে কখন ছেলেরা আসক্ত হয়ে পড়ে।

স¤প্রতি নোয়াখালী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় নিজ এলাকায় মাদকের ভয়াবহতায় নোয়াখালী সদর-সুবর্নচর আসনের সংসদ একরামুল করিম চৌধুরী নিজে উদকণ্ঠা প্রকাশ করেন। তিনি সাংবাদিকদের সামনে সুধারাম থানার ওসিকে ডেকে এনে মাদকের সাথে জড়িতদের কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও পরিস্থিতির কোন উন্নতিতো হয়নিই বরং অবনতি হচ্ছে আশংকাজনকভাবে।

এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দ শাখার এস আই জাকির হোসেন জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা গোয়েন্দা শাখা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, খুব কষ্ট করে আসামী ধরার পর আদালত থেকে তারা খুব সহজেই জামিনে বের হয়ে আসছে। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্ত সূত্র জানায়, লোকবলের অভাবে তাদের কাজে সমস্যা হলেও মাদক নিয়ন্ত্রনে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান জানান, মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবিরা এলাকার শান্তি শৃঙখলা নষ্ট করছে। তিনি বলেন- মাদকের সাথে জড়িতদের আইনের হাতে তুলে দিলেও তারা অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বের হয়ে এসে আবার দ্বিগুণ উৎসাহে অসামাজিক কাজ চালিয়ে যায়।

লোকসংবাদ | Loksangbad | The First Bangla Online Newspaper from Noakhali সাজসজ্জা করেছেন মুকুল | কপিরাইট © ২০১৫ | লোকসংবাদ | ব্লগার

Bim থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.